blog

হাসপাতালে মানুষের অধৈর্যতা: একটি সামাজিক বাস্তবতা

May 16, 2026

আমাদের দেশের মানুষ সবচেয়ে বেশি অধৈর্য হয়ে পড়ে হাসপাতালে গেলে। হাসপাতালের পরিবেশে ঢুকলেই যেন সবার মাঝে এক ধরনের অস্থিরতা কাজ করতে শুরু করে—কে আগে ডাক্তার দেখাবে, কার সিরিয়াল আগে আসবে, কত দ্রুত চিকিৎসা পাওয়া যাবে—এসব নিয়েই ব্যস্ততা ও উত্তেজনা তৈরি হয়। এটি শুধু ব্যক্তিগত আচরণের বিষয় নয়, বরং আমাদের সামাজিক বাস্তবতারও একটি প্রতিচ্ছবি।

একজন অসুস্থ মানুষ শারীরিকভাবে যেমন দুর্বল থাকে, তেমনি মানসিকভাবেও ভেঙে পড়ে। নিজের কিংবা প্রিয়জনের অসুস্থতা মানুষকে ভেতর থেকে আতঙ্কিত করে তোলে। তাই হাসপাতালে অপেক্ষার কয়েক মিনিটও তখন অনেক দীর্ঘ মনে হয়। রোগী ও স্বজনদের মনে একটাই চিন্তা কাজ করে—“যদি দেরি হয়ে যায়!” এই ভয় থেকেই মূলত অধৈর্যতার জন্ম হয়।

তবে শুধুমাত্র মানসিক চাপই নয়, আমাদের দেশের হাসপাতাল ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতাও মানুষের অস্থিরতার অন্যতম কারণ। সরকারি হাসপাতালগুলোতে রোগীর তুলনায় ডাক্তার ও সেবাকর্মীর সংখ্যা কম। দীর্ঘ লাইন, সিরিয়ালের জটিলতা, পর্যাপ্ত বসার জায়গার অভাব এবং অনেক ক্ষেত্রে সঠিক দিকনির্দেশনার অভাব রোগীদের বিরক্তি আরও বাড়িয়ে দেয়। ফলে সামান্য অপেক্ষাও তখন বড় সমস্যা মনে হয়।

কিছু মানুষ আবার মনে করেন, আগে ডাক্তার দেখাতে পারলেই হয়তো দ্রুত সুস্থ হওয়া যাবে। তাই তারা নিয়ম ভেঙে আগে যাওয়ার চেষ্টা করেন, অন্যের সিরিয়াল অমান্য করেন কিংবা তর্কে জড়িয়ে পড়েন। এতে হাসপাতালের পরিবেশ আরও বিশৃঙ্খল হয়ে ওঠে এবং অন্য রোগীরাও ভোগান্তির শিকার হন।

কিন্তু বাস্তবতা হলো—হাসপাতালে প্রত্যেক রোগীর কষ্টই সমান গুরুত্বপূর্ণ। কেউ বাইরে থেকে স্বাভাবিক দেখালেও হয়তো ভেতরে গুরুতর সমস্যায় ভুগছেন। তাই হাসপাতালে ধৈর্য, সহানুভূতি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা খুব জরুরি। চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রতিও সম্মান দেখানো প্রয়োজন, কারণ তারাও সীমিত সামর্থ্যের মধ্যে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।

অধৈর্যতা কোনো সমস্যার সমাধান নয়; বরং এটি পরিবেশকে আরও কঠিন করে তোলে। যদি আমরা একটু ধৈর্য ধরি, অন্যের কষ্টকে বোঝার চেষ্টা করি এবং নিয়ম মেনে চলি, তাহলে হাসপাতালের পরিবেশ অনেক বেশি মানবিক ও সুন্দর হতে পারে। কারণ অসুস্থতার সময় একজন মানুষ সবচেয়ে বেশি যা চায়, তা হলো—একটু সহানুভূতি, শান্তি এবং মানবিক আচরণ।

মোহাম্মদ ফয়সল ভূঁইয়া

ইনচার্জ

ওয়াহিদুর রহমান স্বাস্থ্যকেন্দ্র

Share this:

user

Author: Faisal Bhuiyan

Read More